ল্যাব-গ্রোন হীরা প্রাকৃতিক খনি শিল্পকে সংকটে ফেলছে

ল্যাব-গ্রোন বা গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম হীরা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দাম কম ও সরবরাহ ভালো হওয়ায় কৃত্রিম হীরা বাজারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ফলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে প্রাকৃতিক খনি শিল্পে। এ চাপের কারণে প্রাকৃতিক হীরার চাহিদার পাশাপাশি দামও কমছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

চীন ও ভারতের বিভিন্ন কারখানায় বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম হীরা উৎপাদন হচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে হীরা তৈরির ক্ষেত্রে ভূগর্ভে যে প্রচণ্ড তাপ ও চাপ থাকে, তা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। তবে প্রাকৃতিক হীরা তৈরি হতে যেখানে কোটি কোটি বছর লাগে, সেখানে ল্যাবে তৈরি হীরা উৎপাদনে সময় লাগে প্রায় এক সপ্তাহ।

রাসায়নিক গঠনের দিক থেকেও ল্যাবে তৈরি হীরা প্রাকৃতিক হীরার মতোই। তবে এর দাম অনেক কম। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে তিন ক্যারেটের একটি নিখুঁত প্রাকৃতিক হীরার দাম ছিল প্রায় ৫৭ হাজার ডলার। একই আকারের ল্যাবে তৈরি হীরার দাম ছিল ৪ হাজার ডলারেরও কম।

দামের এ বড় পার্থক্যের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে ল্যাব-গ্রোন হীরার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাগদানের আংটির জন্য ৬১ শতাংশ দম্পতি ল্যাবে তৈরি হীরাকে বেছে নিয়েছেন।

এতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে প্রাকৃতিক হীরা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান ডি বিয়ার্সও এর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়নি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক অ্যাংলো আমেরিকান হীরা ব্যবসার মূল্য অর্ধেক কমিয়ে দেয়। তিন বছরের মধ্যে এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো মূল্য কমানোর ঘটনা।

অন্যদিকে রিও টিন্টো ২০২৬ সালের মার্চে তাদের শেষ হীরার খনিটি বন্ধ করে দেয়। দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক হীরা ব্যবসায় প্রায় ২০ কোটি ডলার লোকসান হয়েছে।

প্রাকৃতিক হীরার বাজারের এ মন্দাবস্থা উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাত ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত কোটি মানুষের জীবিকাও এখন অনিশ্চিত। প্রাকৃতিক হীরার দাম কমে যাওয়ায় বতসোয়ানার মতো প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর সরকারি ব্যয়েও প্রভাব পড়ছে। তবে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, একসময় ক্রেতারা প্রাকৃতিক হীরার বিলাসী ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রতি আবারো আকৃষ্ট হবেন। কিন্তু আপাতত বাজারে মজুদ বেশি থাকায় হীরার ক্রমান্বয়ে দরপতন হচ্ছে।

আরও